মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার

স্টাফ রিপোটারঃ

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে চড়াচাপড়া (গ্রাউন্ডেড) কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’কে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে যৌথ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জাহাজটিকে মুক্ত করে নিরাপদে ‘বি’ অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা হয়। ফলে দেশের প্রধান এই সামুদ্রিক বন্দরের মূল চ্যানেলে নৌযান চলাচল ও সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় রাতভর অভিযান চালিয়ে সকালে জাহাজটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ২০১৭ সালে নির্মিত মাল্টার পতাকাবাহী ১৭০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জাহাজ ‘এমভি সিএনসি ইউরেনাস’ (আইএমও : 9760627) চীনের শিকৌ বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে প্রবেশ করছিল। চ্যানেল প্রবেশের সময় হঠাৎ জাহাজটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে জাহাজটি ২ নম্বর লাল বয়ার সাথে ধাক্কা খায় এবং নদী মোহনার সংলগ্ন রিটেইনিং ওয়ালের ওপর আছড়ে পড়ে চড়ায় আটকে যায়।

৯.৫০ মিটার ড্রাফটের এই জাহাজটিতে মোট ১ হাজার ২৮২ টিইইউএস পণ্য এবং মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে এপিএল (বাংলাদেশ)।

জরুরি বার্তা পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত মোতায়েন করা হয় বন্দরের সিনিয়র পাইলটসহ বন্দর কর্তৃপক্ষের শক্তিশালী টাগবোট ‘কাণ্ডারী-২’, ‘কাণ্ডারী-৪’, ‘কাণ্ডারী-৬’ ও ‘কাণ্ডারী-১১’, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট ‘শিবসা’, টানেল টাগবোট ও কোস্ট গার্ডের টাগবোট ‘প্রমত্ত’। একই সাথে নেভিগেশন চ্যানেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সরাসরি অভিযানে অংশ নেন।

উদ্ধারকারী দল চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে রাতভর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। জাহাজটির ওজন ও ড্রাফট কমানোর জন্য সাময়িকভাবে কিছু কনটেইনার খালাস করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। তবে গভীর রাতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মীবাহিনীর কঠোর ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাহাজটিকে পুরোপুরি মুক্ত করা সম্ভব হয় এবং তা উদ্ধার করে ‘ব্রাভো’ বা ‘বি’ অ্যাঙ্করেজে নিরাপদে নোঙর করা হয়। পুরো উদ্ধার অভিযানজুড়ে বন্দর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বন্দর। দ্রুততম সময়ে এই জরুরি পরিস্থিতির সফল সমাধান দেশের জাতীয় বাণিজ্য রক্ষা করেছে এবং বন্দরের জরুরি আপদকালীন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্বকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।