মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চন্দ্রগঞ্জে পাবলিক টয়লেট দখলে বাঁধা দেওয়ায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

চন্দ্রগঞ্জে পাবলিক টয়লেট দখলে বাধা দেওয়ায় চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা।

শুক্রবার (৭ আগষ্ট) লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে একটি পাবলিক টয়লেট দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দেওপাড়া গ্রামের ফরিদুল ইসলাম দিপুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে মর্মে পরিলক্ষিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ভবভদ্রী ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি পাবলিক টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশত জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। সম্প্রতি ওই স্থাপনা ও আশপাশের জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী দাবী করা ফরিদুল ইসলাম দিপু। এ সময় দখলে বাধা দেওয়ায় চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি(ভারপ্রাপ্ত) ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন গল্প সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন ফরিদ।

দখলের বিষয়টি সাথে সাথে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে জানান এনায়েত উল্যা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে এনায়েত উল্যার বিরুদ্ধে প্রচারিত বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের সাধারন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।

অভিযুক্ত ফরিদুল ইসলাম দিপু চন্দ্রগঞ্জ ইউপির দেওপাড়া গ্রামের ফজল আমিনের ছেলে। এছাড়াও সে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ২৪শের ৫আগষ্টের পরপরই ফরিদ ব্যাপক উগ্র হয়েছে। বিভিন্ন চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ৫ই আগষ্টের পরেই সে পাবলিক টয়লেটটি তার দখলে নিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অনেকভাবে বললেও ফরিদ কাউকে তোয়াক্কা না করেই দখল জারি রাখে। শুক্রবার সে পাকা পাবলিক টয়লেটের উপর টিনের চাল লাগাতে গেলে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বাঁধা দেয়। বাঁধা দেওয়ার পরপরই ফরিদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এনায়েত উল্যার নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন অবান্তর বিষয়ে কোন প্রমাণ ছাড়া দোষারোপ করে একটি লাইভ করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বাজারের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতি নেতারা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন।

ফরিদুল ইসলাম দিপু জানান, ‘আমি পাবলিক টয়লেটটি সংস্কার করছি সাধারন মানুষের ব্যবহারের জন্য। কিন্তু কিছু মানুষের ভুল তথ্য বিষয়টিকে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাবলিক টয়লেট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থাপনা দখলের চেষ্টা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন নিপা বলেন, ‘পাবলিক টয়লেট দখলের বিষয়টি খুবই ন্যাক্কারজনক, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলে দিয়েছি।’

আরও পড়তে পারেন..