মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

দীপ্ত টিভির সাংবাদিককে গুলি,  বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে সাকিব বাহিনী প্রধান সাকিবের গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর। পরে বাহিনী প্রধান সাকিব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ঘেরাও করে তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জাহাঙ্গীর আলম ইনডিপেনডেন্ট টিভির স্টাফ রিপোর্টার ও স্থানীয় দৈনিক মেঘনার তীর পত্রিকার সম্পাদক আব্বাছ হোসেনের ছোট ভাই। এঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বাহিনী প্রধান সাকিবের বিচার ও জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের দাবী জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাংবাদিক আব্বাছ হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত জাহাঙ্গীর আলম। মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের স্কুল থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় পৌঁছলে সাকিব বাহিনী প্রধান ও তার কয়েকজন সহযোগীসহ তার পথ গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তার মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে জাহাঙ্গীর আলম বাধা দিলে তাকে গুলি ছুড়ে। অল্পের জন্য সে প্রাণে রক্ষা পায় জাহাঙ্গীর। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা সাকিবকে আটক করে পুলিশে দেয়। সন্ত্রাসী সাকিবের বিরুদ্ধে সদর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যা,চাঁদবাজি,বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনে কয়েকটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি সে জেল থেকে বের হয়। ইতিমধ্যে বাহিনী প্রধান সাকিবের গ্রেফতারের দাবীতে জকসিন বাজারে বিক্ষোভ-মানববন্ধন করে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,সন্ত্রাসী সাকিব হোসেন সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকার সেলিম ড্রাইভারের ছেলে। সে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতা। সাকিবের রয়েছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। আর বাহিনীর প্রধান সে নিজেই। সন্ত্রাসীর পাশাপাশি এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত সে। বৈষম্যবিরোধী চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ছিল এই সাকিব। কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে এসে আবারও এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে সাকিব ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর গ্রেফতার এবং বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতার পেশার সাথেও জড়িত জাহাঙ্গীর। মাদক ব্যবসা ও সাকিবের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় এই ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা।

জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই সাংবাদিক আব্বাছ হোসেন জানান, সন্ত্রাসী সাকিবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রচার করার কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব ও তার বাহিনীর সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করলেও অল্পের জন্য প্রানে বেঁচে যায় জাহাঙ্গীর। সাকিবকে কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তার সহযোগিদের গ্রেফতারের দাবী জানান তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সাকিবকে আটক করে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া অন্যদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।