মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

লক্ষ্মীপুরে কাবিননামা নিয়ে দ্বন্ধ : গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ের পর কাবিননামার টাকা বৃদ্ধি ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মারিয়া জাহান মীম (১৬) নামে এক কিশোরী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে নিহত মীমের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী মো. মাহিন ও শ্বশুর মোহাম্মদ হানিফ পলাতক রয়েছেন। নিহত মীম উপজেলার পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সেকান্তর গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে। স্বামী মো. মাহিন একই উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আসলপাড়া গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ হানিফের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাস আগে মাহিনের সঙ্গে প্রেম করে ঘর ছাড়েন মীম। পরবর্তীতে মাহিনের পরিবার মীমকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেয় এবং নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে মেয়ের পরিবার মীমকে মেনে না নেওয়ায় গত সাত মাস ধরে বাবার বাড়ির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি মাহিনের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরই মধ্যে মীম ও মাহিনের বিয়ের বিষয়টি পারিবারিকভাবে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে মীমের বাবা-মা আট লাখ টাকা কাবিন দাবি করেন। এই বিষয়টির সুরাহা করতে গতকাল আলেকজান্ডার বাজারের ব্যবসায়ী বেলালের মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে মীমের পরিবার আট লাখ টাকা কাবিন দাবিতে অটল থাকে, অন্যদিকে ছেলের পরিবার তা পাঁচ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে আগের বিয়ে ও কাবিনের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাগ্‌বিতণ্ডা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, মীম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মীমের শাশুড়ির দাবি, সকাল ১০টার দিকে তিনি ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কাগজপত্র ঠিক করতে স্থানীয় আলেকজান্ডার বাজারে একটি কম্পিউটারের দোকানে গিয়েছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে শয়নকক্ষের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি একাই মীমকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন এবং সবাইকে জানান। তবে বাড়ির কোনো সদস্য বা প্রতিবেশী কেউই গৃহবধূকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাননি।
‎এদিকে নিহত গৃহবধূর চোখে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। মীমের চাচা রাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কাবিননামার টাকা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মীমকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।

‎এবিষয়ে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি লিটন দেওয়ান বলেন,
‎খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে । ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।