অক্টোবর ২৫, ২০২১

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চন্দ্রগঞ্জে শিশু শ্রমের বলি হলেন শিশু শ্রমিক সাইমুন ! দাফন সম্পন্ন

নিহত সাইমুনের মৃত দেহ

মোহাম্মদ হাছান, নির্বাহী সম্পাদক ঃ

যে বয়সে সাইমুন এর  পড়ালেখা আর খেলার মাঠে খেলার  কথা ছিল, শৈশবের সুন্দর দিন গুলো উপভোগ করার কথা ছিল, বন্ধুদের সাথে ফুটবল, হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা, ক্রিকেট বা অন্য যেকোন খেলা খেলার কথা ছিল, আর হলো না !!  সেই বয়সেই তাকে হাতে তুলে নিতে হল লোাহার হাতুড়ে।আর সেই লোহার নির্মম  আঘাতেই প্রাণ গেল এই প্রাণবন্ত ১৪ বছরের ছোট্ট সাইমুনের।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চন্দ্রগঞ্জ বাজারে।শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১:৪৫ঘটিকার সময় চন্দ্রগঞ্জ বাজারের মধ্য বাজারের রোমানা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ এন্ড রেন্ট এ-কার নামক প্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটেছে। দোকানের মালিক মোঃ রুবেল সহ অন্যান্যরা বাহিরে কাজ করতে চলে গেলে দোকানে সাইমুন একা থাকে। হঠাৎ তিন মাস আগে তৈরীকৃত বড় আকারের লোহার গেইট বিনা নোটিশে সাইমুনের উপর আছড়ে পড়ে। সাথে সাথে সাইমুনকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে। পরে উপস্থিত লোকজন শিশুটিকে স্থানীয় ন্যাশনাল হসপিটালে নিয়ে যায়, ঐখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইমুনের অবস্থা দেখে তাকে নোয়াখালীর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করে। নোয়াখালী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইমুনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সাইমুনকে চাপা দেওয়া লোহার গেইট।

সাইমুন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানাধীন ১নং আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দের খিল গ্রামের বরইন্নার বাড়ির মোঃ শাহজাহানের ছেলে। শাহজাাহান চন্দ্রগঞ্জ বাজারের গণমিলনায়তনের পাশেই ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দেয়। জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন ভাগ্যে আল্লাহ যা রাখছে তাই হইছে।আমি ছেলের সাথে ঘটনার সময়ের ৩০ মিনিট আগে কথা বলে আসছি। এবিষয়ে জানতে চাইলে সাইমুনের ওয়ার্কসপের মালিক রুবেল বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে গেছে। আমরা কেউই দোকানে ছিলাম না।এত কম বয়সের বাচ্ছা দোকানে কেন রাখছেন জানতে চাইলে রুবেল কোন উত্তর দেয় নাই।

একটা প্রশ্ন থেকেই যায়,শিশু শ্রমের আইনে এটা কি অপরাধ নয়? দোকান মালিক মোঃ রুবেল কিভাবে মাত্র ১৪ বছর বয়সের একটা বাচ্ছাকে ওয়ার্কসপের মত কঠোর পরিশ্রমের কাজে নিয়োগ দেয়? এই প্রশ্নটা জাতির কাছে থেকেই গেল? স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় জনগন। 

রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৮ ঘটিকার সময় সাইমুনের নিজ বাড়িতে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাপন করা হয়। বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে একটা মৃদু ক্ষোভ পরিলক্ষিত করা যায় যে, চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন প্রকার প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে জানা গত কাল রাতেই ওয়ার্কসপ মালিক রুবেল ও এলাকার লোকজনসহ বিষয়টি সামান্য টাকায় রপাদপা করে ফেলে। প্রশ্ন আবার জাতির বিবেকের কাছে থেকেই গেল??

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মমর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক এ বিষয়ে বলেন, ঘটনা জানার সাথে সাথে ঘটনা স্থলে যাই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন