আগস্ট ১৩, ২০২২

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চন্দ্রঞ্জে পুনরায় ভোট গণনা চান হেরে যাওয়া ইউপি সদস্য প্রার্থীরা ! মামলার প্রস্তুতি…

মোহাম্মদ ফয়সাল (প্রকাশক ও সম্পাদক)ঃ ক্যাডাররা যে ভোট দিয়েছে, ভুল বশত তারা সহকারী প্রিসাইডিং এর স্বাক্ষর ও সিল বাদেই ব্যালট বাক্সে তা প্রবেশ করায়। এই ভোট গুলো বাদ দিয়ে পুনরায় ভোট গণনা করলে ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউপি নির্বাচনের অনেক সাধারন সদস্য যারা নির্বাচিত তারা বাদ যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক সাধারন সদস্য প্রার্থী।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারন মানুষের মাঝে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রেই নৌকার প্রার্থীর সাথে সাথে তাদের মনোনীত মেম্বার প্রার্থীর জন্যও অবৈধ ভাবে ব্যালটে সিল মারে স্থানীয় ক্ষমতাসীন অনেক নেতা-কর্মী। অবৈধ ভাবে সিল মারার একাধিক ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

গত ২৬ ডিসেম্বর ৪র্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ১০নং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নানা রকম অনিয়ম আর অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায় ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই দলীয় নেতা কর্মীর আধিপত্য দেখা যায়। ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট টেনে নেওয়া, জোর করে নৌকায় সিল মেরে দেওয়া, প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং থেকে জোর করে ব্যালট নিয়ে সিল মারা, বহিরাগত সন্ত্রাসী আনা, দলীয় ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারন ভোটারদের হুমকি ধমকিসহ নানা ধরনের অপকর্মের মধ্যদিয়ে শেষ হলো ২৬ তারিখের চন্দ্রগঞ্জের ইউপি নির্বাচন।

০৫নং দেওপাড়া ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ফুটবল প্রতিকের মোঃ মিজানুর রহমান ভোটের কারচুপি নিয়ে এবং অবৈধ ভোটের কারনে তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী জিতে গেছে বলে অভিযোগ করেন। এজন্য সহকারী প্রিসাইডিং এর  স্বাক্ষর ও সিল ছাড়া ব্যালট গুলো বাদ দিয়ে  পুনরায় ভোট গনণার জন্য তিনি দাবী জানান। এব্যাপারে তিনি আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। এছাড়ও  ৪নং লতিফপুর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ও ২৬ তারিখের নির্বাচনের মেম্বার প্রার্থী  মোঃ সামছুল আলম একই অভিযোগ তোলেন।

চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, আরো অনেক মেম্বার প্রার্থীর একই অভিযোগ। তারা বলেছে তারাও প্রয়োজনে আদালতের স্মরণাপন্ন হবে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ব্যক্তি যারা ভোট গনণার সময় উপস্থিত ছিল  তারা বলেন যে, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনারস প্রতিকের মোহাম্মদ হাছান অনেক ভোট পেলেও তার ভোট গনণা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন দলীয় প্রার্থীর এজেন্টরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনারস প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ হাছান জানান, আমার ভোটারদের প্রতি আমার আস্থা আছে, আমার মত তারাও সমাজের পরিবর্তন চায়। ভোট চুরি বা ভোট ডাকাতি সভ্য সমাজের একটি অসভ্য কাজ। যারা এই কাজের সাথে জড়িত আগামীতে সবার মুখোশ উম্মোচন করা হবে। আমি আছি সব সময় সাধারন মানুষের সাথে, থাকবোও সব সময়।

শেয়ার করুন