অক্টোবর ৭, ২০২২

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ক্ষমতাসীন দু’গ্রুপের প্রতিবাদ সমাবেশ! পুলিশের লাঠি চার্জে ছত্রভঙ্গ

প্রতিবাদ মিছিলের একাংশ

মোহাম্মদ ফয়সাল, (প্রকাশক ও সম্পাদক)ঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র কের সাময়িক উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বরিবার চন্দ্রগঞ্জ হাটের দিন হওয়ায় সাধারন মানুষ আচমকা একটা পরিস্থিত মধ্যে পড়ে যায়, যার ফলে মহিলা, শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে লাঠি চার্জ চত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রতিবাদ সমাবেশের একাংশ

১৬ জানুয়ারী রবিবার বিকাল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেট এলাকায়। এসময় দুই গ্রুপের কয়েক শত নেতা কর্মী জড়ো হয়। জানা যায় চন্দ্রগঞ্জে কাজী বাবলু গ্রুপ ও চন্দ্রগঞ্জের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সমর্থিত নেতা কর্মীদের মাঝে এই পাল্টা পাল্টি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কাজী বাবলু গ্রুপের নেতা কর্মীদের থেকে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ জানুয়ারী) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে কাজী বাবলু ও সাইফুর রহমান জিকু থানা থেকে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আসার সময় সমতা হল এলাকায় তাদের উপর কেউ হামলা চালায়। এ হামলায় কাজী বাবলুর মাথা সামান্য ফেটে যায় ও জিকুর চোখের কোনায় কেটে যায়। এখানে তারা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মনির হোসেন ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে দাবী করে। যদিও তারা দুই জনই বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ঘটনাটি জানাজানির পরই বাজারে বাবলু বাহিনীর লোকজন চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতেই মিছিল করে, বোমা ফুটায় এবং মিছিলের উত্তেজনায় পুলিশের সামনেই চেয়ারম্যান গ্রুপের একটি বড় ব্যানার ছিড়ে ফেলে। পরবর্তীতে তারা প্রায় রাত ১২টা পর্যন্ত চন্দ্রগঞ্জ আফজাল রোডে অবস্থান নেয়। এছাড়াও কাজী বাবলু বাহিনীর লোকজন রাত ২টার পরে চেয়ারম্যানের বড় বিল বোর্ডটি ছিড়ে ফেলে, যা বাজারে উপস্থিত অনেকে দেখে এবং তা বাজারে স্থাপিত সিসি টিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।

এছাড়া চেয়ারম্যান সমর্থিত নেতা কর্মীরা জানায়, কাজী বাবলু দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন সময় নানা রকম নাটকের জন্ম দেয়। শনিবার সে থানা থেকে আসার সময় মটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়, পড়ে গিয়ে তাদের দুই জনেরই মাথার একই পাশে সামান্য ফেটে যায়। এই ঘটনাকে তারা হামলা সাজিয়ে তাদের নেতা কর্মীর উপর দোষ চাপিয়ে পূর্বের মত মিথ্যা মামলার জন্ম দিবে বলে তাদরে ধারনা। এছাড়াও তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের বিল বোর্ড ও তাদের কয়েকটি বড় বড় ব্যানার ছিড়ে পেলে। তার প্রতিবাদে তারা রবিবার প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে চন্দ্রগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকায়।

পরবর্তীতে বিকাল ৫টার দিকে বাবলু গ্রুপের লোকজন মিছিল শেষ করে চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেটের সামনে সমাবেশে অবস্থান নিলে চেয়ারম্যান গ্রুপের বিশাল মিছিল তখন নিউ মার্কেটের দিকে আসে। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুলিশ দুই পক্ষকে লাঠি চার্জ করে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি হয়। দিনটি হাট বার হওয়ার বাজারে প্রচুর লোক সমাগম হয়। যেহেতু পাল্টা পাল্টি সমাবেশের কথা রবিবার সকাল থেকেই সবার মুখে মুখে। সেই কারনে চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক মাওঃ আব্দুল কুদ্দুছ এর কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি বাজারের পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক কোন সাহায্য চেয়েছেন কি না? তিনি এ বিষয়ে কোন উত্তর দিতে পারে নি।

যেহেতু, গত কাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং কয়েকটি নিউজ পোর্টালে দেখা যায় কাজী বাবলু পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আসার পথেই হামলার স্বীকার হয়। এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক জানান, বাবলু কোন নিরাপত্তা চাওয়ার জন্য থানায় আসেনি। প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য কোন পক্ষ থানার অনুমতি চাওয়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, কোন পক্ষই তার কাছে প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য অনুমতি বা জিজ্ঞাসা করে নি।

শেয়ার করুন

আরও পড়তে পারেন..