অক্টোবর ৭, ২০২২

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের দু’টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় চন্দ্রগঞ্জবাসী

জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার হোছাইন আকন্দ

মোহাম্মদ হাছান, ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক ও সম্পাদকঃ

লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার হোছাইন আকন্দ’র দুটি নির্দেশনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় চন্দ্রগঞ্জবাসী। জেলার সীমান্তবর্তী বাজার হওয়ায় নানা রকম প্রতিকূলতা ও অবহেলায় জীবন-যাপন করছে এই এলাকার মানুষ।

গত ১০ এপ্রিল ২০২১ ইং তারিখে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০টি দোকান পুড়ে যায়। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক। আর্থিক সহায়তা প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক বাজারে মহাসড়কের পাশে এবং দোকানের সামনে বড় বড় ব্যানার পেষ্টুন দেখে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে নির্দেশনা দেন বাজারে ও মহাসড়কের পাশের সকল বড় বড় ব্যানার পেষ্টুন সরিয়ে ফেলার জন্য। ঐ সময় চেয়ারম্যান ব্যানার সরানোর বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার বিগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হকের সহায়তা চাইলে, ওসি বলেন আপনি সরালে রাজনৈতিক সমস্যা হতে পারে, সময় করে আমি সরিয়ে দিব। যা আজ পর্যন্ত আর বাস্তবায়নের মুখ দেখলো না চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী ও জনসাধারন।

এছাড়াও গত ৮ মে ২০২১ ইং তারিখে করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী চন্দ্রগঞ্জের হতদরিদ্রদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক স্থানীয় কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে আসেন। উপহার সামগ্রী বিতরণ শেষে দৈনিক ভোরের দর্পণের সাংবাদিক মোহাম্মদ হাছান জেলা প্রশাসককে বলেন, চন্দ্রগঞ্জ বাজারে অগ্নি সংযোগ হলে ফায়ার সার্ভিসের পানি নেওয়ার কোন উৎস নাই। যার কারনে প্রতিবার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শুধু পানি সরবরাহ করতে প্রচুর সময় অপচয় হয়। ওয়াপদা খালের সাথে যদি একটি সিঁড়ি নির্মাণ করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে অগ্নি সংযোগ হলে পানি নিয়ে আগুন নিভাতে কোন অসুবিধা হতো না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাথে সাথে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমকে দায়িত্ব দেন এবিষয়ে চন্দ্রগঞ্জের চেয়ারম্যান এবং বাজার কমিটির সাথে সমন্বয় করে যেন একটি সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। 

চন্দ্রগঞ্জের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক মাওঃ আব্দুল কুদ্দুছ ঐ সময় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ দোকান গুলো থেকে একটু একটু করে জায়গা নিয়ে একটি  সিঁড়ি করার ব্যাপারে প্রস্তাব করলে ক্ষতিগ্রস্থ দোকানদাররা একটি লিখিত অঙ্গীকার করে যে, যেহেতু কিছু দিন পরে ভবভদ্রী ব্রিজের কাজ আরম্ভ হবে তখন ব্রিজের পাশে একটি সিঁড়ির ব্যবস্থা করলে আমরা অর্থনৈতিক বিষয়টির ব্যবস্থা করব। ভবভদ্রী ব্রিজের কাজ বর্তমানে চলমান কিন্তু বাজারের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় সিঁড়ির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কারো নজরে আসে নি।

এ ব্যাপারে সাধারন মানুষের ভিতরে গভীর হতাশা পরিলক্ষিত হয় যে, মাননীয় জেলা প্রশাসক কোন নির্দেশনা দিলে তা বাস্তবায়ন করতেও অনীহা দেখা যায়, যা আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক।

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক মাওঃ আব্দুল কুদ্দুছ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ দোকান গুলো সাথে আলাপ করছি। ডিসি মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আগুনে পোড়া দোকান গুলো থেকে একটু একটু করে জায়গা নিয়ে একটি সিঁড়ি নির্মাণ করার জন্য। তখন ঐসব দোকানদাররা বলেন ভবভদ্রী ব্রিজের কাজ শেষের দিকে আমরা ব্রিজের পাশে একটি সিঁড়ি করব এবং এই সিঁড়ির অর্থায়ন আমরাই করার চেষ্টা করব। এবিষয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ দোকানদাররা বাজার কমিটির কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করে।

উল্লেখিত দুটি বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমার বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছের সাথে কথা হয়েছে। পরিকল্পনা মতে ভবভদ্রী ব্রিজের কাজের শেষে দিকে আমরা একটি সিঁড়ির তৈরীর কাজ করব, যাতে যেকোন সময়ে অগ্নিকান্ড হলে আমরা দ্রুত সময়ে পানির ব্যবস্থা করতে পারি আগুন নিভানোর জন্য।

শেয়ার করুন

আরও পড়তে পারেন..