নভেম্বর ২৬, ২০২২

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

লক্ষ্মীপুরে অর্থ আত্নসাতের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

আবু ইউসুফ ছৈয়াল

মুক্তিকন্ঠ ডেস্কঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়ালকে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতের বিচারক শামছুল আরেফিন এ নির্দেশ দেন। এর আগে এ মামলায় তিনি অস্থায়ী জামিনে ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর আদালতে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউসুফ হাওলাদার রূপম।

মামলায় চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ছাড়াও তার ভাতিজা বাবুল ছৈয়ালকে বিবাদী করা হয়েছে। তিনি পালতক রয়েছেন। চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল চররমনী মোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হাসান জানান, ব্যবসায়িক কারণে বাদী রূপম অভিযুক্ত ইউসুফ ছৈয়ালের কাছ থেকে ৩৩ লাখ টাকা পাওনা। এনিয়ে কয়েকবার বৈঠকে বসলেও তিনি টাকাগুলো দেননি। এর আগে চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস জানিয়ে আদালত থেকে দুই মাসের অস্থায়ী জামিন নেন।

সোমবার (৪ জুলাই) আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন চেয়ারম্যান। আদালত জামিনের আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহার সূত্র ও বাদী রূপম হাওলাদার জানান, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাটের মেঘনা নদীর লঞ্চ ও ফেরিঘাট রূপম ও ইউসুফ ছৈয়াল যৌথভাবে ইজারা নেন। তবে বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে ঘাটটি ইউসুফ ছৈয়ালের ভাতিজা (মামলার দ্বিতীয় আসামি) বাবুল ছৈয়ালের নামে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। ঘাট ইজারা নিতে বাদী রূপম দুই দফায় ৩৩ লাখ টাকা চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন। ইজারা নেওয়ার পর কয়েক মাস চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল রূপমকে ঘাটের লাভ্যাংশ দিলেও ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর থেকে তাকে লাভের ভাগ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এছাড়া তাকে ঘাটে যেতে নিষেধ করেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন।

এতে বাধ্য হয়ে রূপম লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে ইউসুফ ছৈয়াল ও তার ভতিজা বাবুল ছৈয়ালের নামে ৩৩ লাখ টাকা পাওনা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশের তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই মধ্যে ইউপি নির্বাচন কেন্দ্রিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য আদালতে মিমাংসার আবেদন জানিয়ে জামিন চান ইউসুফ ছৈয়াল। আদালত তাকে দুই মাসের অস্থায়ী জামিন দেন। তবে ওই সময়ের মধ্যে বিষয়টি মিমাংসা না করায় চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

শেয়ার করুন