অক্টোবর ৭, ২০২২

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

মেয়াদোত্তীর্ণ চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটি! অকার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রথম সারির বাজার গুলোর মধ্যে চন্দ্রগঞ্জ বাজার অন্যতম। অন্যতম বাজার হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বাজে অবস্থা এই বাজারের এমনটাই দাবী প্রায় অধিকাঅংশ ব্যবসায়ীর। বর্তমান বাজার কমিটির মেয়াদ পায় ২বছর পার হওয়ার পথে তারপরও কোন মহলের কর্তৃপক্ষেরই মাথা ব্যাথা নাই এই বাজারের উন্নয়ন নিয়ে।

লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে দামী বাজার হল চন্দ্রগঞ্জ বাজার। কারন এই বাজারের ইজারা প্রায় দুই কোটি টাকা যা জেলার অন্য কোন বাজারে নাই। ২০১৮ সালের ২৭জানুয়ারী ৩বছর মেয়াদী বাজার কমিটি নির্বাচন হলেও তারপর থেকে এই পর্যন্ত আর চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির নির্বাচন হয় নি। 

কোন এক অদৃশ্য কারনে চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলায় জরাজীর্ণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমান বাজার কমিটি একটি অকার্যকর কমিটি। এই কমিটি একটি রোবট কমিটি বা পকেট কমিটি। একটি নির্দিষ্ট মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটির কাজ। 

এছাড়াও অনেকে জানান , গত মেয়াদেও বাজার কমিটি ৩বছরের জায়গায় প্রায় ৭বছর ছিল। হিসাব করে বুঝে নিন কাদের ইঙ্গিতে এগুলো হচ্ছে। বর্তমান কমিটি নির্বাচনী ইশতেহার ছিল কমিটি গঠনের ৩মাসের মধ্যেই বণিক সমিতি গঠন করা, যা ৫বছরেও সম্ভব হয় নি।

বর্তমান চন্দ্রগঞ্জ বাজার একটি অপরিচ্ছন্ন বাজার, অনিয়মতান্ত্রিক বাজার, এখানে ব্যবসায়ীদের কোন সমস্যায় বাজার কমিটি এগিয়ে আসেনা। এই বাজারে কোন ব্যবসায়ীকে যদি কোন বহিরাগত লোকজন বা সন্ত্রাসী এসে মারধর করে তাতেও বাজার কমিটি কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করে না বলে একাধিক ব্যবসায়ী জানান। এছাড়াও বাজারে যানযট সবসময় লেগেই থাকে। যানযট নিরসনেও বাজার কমিটির কোন ভূমিকা দেখা যায় না। পয়ঃনিষ্কাশনের কথা আর বললাম না, সামান্য বৃষ্টি হলেই এই বাজারে পানি জমে যায়। এই বাজারেই অস্থায়ী জায়গায় স্থায়ীভাবে দোকান বসে আছে আর লক্ষ লক্ষ টাকা জামানত ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ঘর দোকানের ব্যবসায়ীরা বসে বসে আঙ্গুল চুষছে।

এছাড়াও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সামনেই বাজারের সকল ময়লা ফেলা হয়, যার কারনে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা প্রার্থীরা দুর্ঘন্ধের কারনে আসতে পারে না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি ময়লা ফেলার বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে আইন শৃঙ্খলা মিটিংএ  জানিয়েছি এবং ছবিও দেখিয়েছি, কিন্তু তারপরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বাজার ইজারাদারের বিরুদ্ধে।’

এই বাজারের অব্যবস্থাপনার আরো একটি বড় চিত্র বাজার ইজারা। সরকারী টোল চার্টে খাজনা ৫০টাকা লেখা থাকলেও এখানে খাজনা নেওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে বাজার কমিটির কোন মাথা ব্যাথা নেই । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, ইজারাদার তো সব কিছু ম্যানেজ করে রাখে এমনকি উপর মহলও ম্যানেজ করে রাখে তাই অতিরিক্ত খাজনা নিয়ে কেউ কিছু বলে না।

চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী করিম। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দল সমর্থিত একজন লোক, ইচ্ছা অনিচ্ছায় তিনি অনেক কথা বলেন না। আবার সাধারন সম্পাদক মাও: মো. আব্দুল কুদ্দুছ (গত কমিটিতেও একই পদে ছিল) তিনি সবার সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় যার কারনে তিনি কিছুই করতে পারে না এমন অভিযোগ প্রায় ব্যবসায়ীর। এমতাবস্থায় কে হাল ধরবে এই এত বড় চন্দ্রগঞ্জ বাজারের? বাকী কমিটির অন্যসব সদস্যরা বলে আমাদের কি করার আছে, যদি উপর থেকে আমাদের কিছু না বলে।

মেয়াদোত্তীর্ণ বাজার কমিটি সম্পকে বাজার কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ‘চন্দ্রগঞ্জ বাজারের নির্বাচন নিয়ে আমি বর্তমান কমিটিকে অনেকবার বলেছি, তারা বার বার সময় নিচ্ছে বণিক সমিতি করবে বলে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে নি। আগামী ১সপ্তাহের মধ্যে আমি কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে একটি কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করব, এই কমিটির মাধ্যমে আগামীতে  হয় বাজার কমিটি বা বণিক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

শেয়ার করুন

আরও পড়তে পারেন..