অক্টোবর ৭, ২০২২

মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চন্দ্রগঞ্জ বণিক সমিতি’র গঠনতন্ত্র গড়ার আগেই ভাঙ্গার অভিযোগ!

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বহুল আলোচিত চন্দ্রগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির অভিষেক হলেও গঠনতন্ত্র চুড়ান্ত হওয়ার আগেই গঠনতন্ত্র পরিপন্থী/ভাঙ্গার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় চন্দ্রগঞ্জ বাজার গণমিলনায়তনে চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির উদ্যোগে বণিক সমিতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারন  সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বণিক সমিতির উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, সভাপতিত্ব করেন, চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি (সাবেক) আলী করিম মেম্বার, পরিচালনা করেন, মাওঃ মো. আব্দুল কুদ্দুছ। অনুষ্ঠান শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ট্রাভেলস্ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি আলী করিম মেম্বার।

বাজার কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক(সাবেক) বাবুল হোসেন এর সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চন্দ্রগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম. ছাবির আহম্মেদ, সাংবাদিক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, কামরুজ্জামান নিজাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী হোসেন, বাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ(সাবেক) সাহাব উদ্দিন, ইউপি সদস্য মো. মহিন উদ্দিন ও কাজী সোলায়মানসহ আরো অনেকে।

বক্তব্যে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম এবং বাজারের ব্যবসায়ী ও আওয়ামীলীগে নেতা কামরুজ্জামান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আগামীতে একটি একটি গ্রহণযোগ্য বণিক সমিটি গঠনের জন্য ব্যবসায়ীদের আহ্বান করেন বক্তারা। পরে মাওঃ মো. আব্দুল কুদ্দুছ সংক্ষেপে গঠনতন্ত্র পড়ে শুনান।

পরবর্তীতে চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চন্দ্রগঞ্জ বাজার কমিটি বিলুপ্ত করেন এবং চন্দ্রগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে মাওঃ মো. আব্দুল কুদ্দুছ বণিক সমিতির অন্তবর্তীকালীন দায়িত্ব পালনে ৩মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে মাওঃ মো. আব্দুল কুদ্দুছ আহ্বায়ক, সদস্য আলী করিম মেম্বার, গৌতম চন্দ্র মজুমদারসহ পূর্বের ১৪ সদস্যের সবাই এবং স্বাগতিক ২ ওয়ার্ড মেম্বার মহিন উদ্দিন  ও কাজী সোলায়মানকে সদস্য করে মোট ১৬ সদস্যদের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি আলী করিম মেম্বার অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বিপত্তিটা ঘটলো তারপরই, সবাই অনুষ্ঠান শেষ অতিথিরাও অনেকে চলে গেল, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আইডির মাধ্যমে জানা যায়, গঠনতন্ত্র পরিপন্থীভাবে ১জনকে অর্থ্যাৎ ১৭ নাম্বার সদস্য করা হয় ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ পরান শাকিলকে। বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন মহল থেকে এই বিষয়ে নানা রকম মন্তব্য করতে শুনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গঠনতন্ত্র গড়ার আগেই গঠনতন্ত্র ভাঙ্গার হিড়িক পড়ে গেছে, এই বণিক সমিতি আগামীতে কতটুকু অগ্রসর হবে এই বিষয়ে আমরা সন্দীহান। কারন ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাজারের ব্যবসায়ীও না বা বাজারও ৭নং ওয়ার্ডের মধ্যে না।

এছাড়াও অনেকে মন্তব্য করেন, বণিক সমিতির আলাচনায় শুধু মাত্র নির্দিষ্ট কিছু লোকের গুণগাণ গাওয়া হয়, এটা কোন ব্যবাসয়ী বণিক সমিতি হতে পারে না, এটা একটা রাজনৈতিক সমিতি হিসেবে আত্ন-প্রকাশ করবে। সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের কথায় গলা মিলিয়ে বলা যায় যেই লাউ সেই কদু। অনেক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন আমরা নিয়ন্ত্রিত বণিক সমিতি চাই না।

এ বিষয়ে চন্দগঞ্জ বণিক সমিতি বাস্তবায়নের এডহক কমিটির আহ্বায়ক মাওঃ  মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ জানান, শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে সবার অনুরোধে ১৭ নাম্বার সদস্য অন্তর্ভূক্ত করা হয়। বিষয়টি সঠিক না হলেও আমার করার কিছু ছিল না।

চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ‍নুরুল আমিন জানান, অনুষ্ঠান শেষ, কমিটি ঘোষণা হয়ে গেছে, আমরা চলে আসছি, এর পরে যদি কেউ গঠনতন্ত্র প্রণয়নের আগেই গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ করে এই বিষয়ে বর্তমান কমিটি জবাব দিবে বা ব্যবসায়ীরা এটা কিভাবে নিবে এটা ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিবে।

শেয়ার করুন

আরও পড়তে পারেন..