মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য ওয়াদাবদ্ধ শিবির সভাপতি জাহিদুল

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 

ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, যারা নিজেদেরকে শহীদের উত্তরসুরী মনে করে, তাদের কাছে নতুন করে ভয় শঙ্কার কোন জায়গা নেই। আমি ওয়াদা করছি, শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য আমরা লক্ষ লক্ষ যুবক জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।  আপনাদের আকুতি-আবেগ আমরা কোন কিছু দিয়ে পূরণ করতে পারবো না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের মনে ক্ষোভ রয়েছে।বাংলাদেশে শুধু আওয়ামী ফ্যাসিবাদ নয়, অদূর ভবিষ্যতে নতুন করে কোন ফ্যাসিবাদ-জুলুমতন্ত্র আমরা কায়েম হতে দেবো না।

বুধবার (২রা এপ্রিল)  রাত দশটার সময় লক্ষ্মীপুর শহরের ঐতিহ্য কনভেনশন সেন্টারে শহর শিববরের আয়োজিত শহীদ পরিবেরের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন।  এ আয়োজন করা হয়।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গা থেকে আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসন করার চেষ্টা চলছে। ফ্যাসিবাদকে আবার রাজনীতি ও ক্ষমতায় আসার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। যারা এ কথাগুলো বলে তারা নিজে শহীদদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করে, বেঈমানী করে৷।আন্দোলনে আমরাও শহীদ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কোনভাবে যদি শেখ হাসিনা টিকে থাকতো। আজকে এই শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসার সুযোগ থাকতো না। এই পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতো বাংলাদেশ থেকে। বিভিন্ন হাসপাতালে যখন আমাদের ভাইদেরকে চিকিৎসার জন্য পাঠাতাম তাদেরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। অনেক ভাইকে গুলি করেছে। একটি বিভিষিকাময় সময় আমরা পার করেছি। এখন নতুন করে আমাদের ভয় শঙ্কা, চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নিকেশ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আগস্টের আন্দোলনের আগ পর্যন্ত ইসলামী ছাত্র শিবিরের ২৩৪ জন ভাই বিভিন্নভাবে শহীদ হয়েছে। এক হাজারেরও বেশি ভাইকে গুম করা হয়েছে। কাউকে ৩ দিন, কাউকে ৫ দিন, এক মাস ও বছরের পর বছর গুম করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আয়নাঘরে। এরমধ্যে অনেক ভাইকে আমরা লাশ হিসেবে পেয়েছি।আবার অনেক ভাইকে আহত পঙ্গুত্ব অবস্থায় পেয়েছি। অনেক ভাইকে গুম করার পর তার খোঁজ আর পাওয়া যায়নি। এখনো পর্যন্ত জুলাই আগস্টের পর আমাদের ৭ জন ভাইকে পাচ্ছি না। পরিবারগুলোর কাছে আমরা কিভাবে জবাব দেবো? আমাদের ভাইয়েরা কি জীবিত আছে? জুলাই আগস্টে ইসলামী ছাত্র শিবিরের অনেক ভাইকে হারিয়েছি।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এআর হাফিজ উল্যাহ, শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুহতাসিম বিল্লাহ, মাদ্রাসা সম্পাদক আলাউদ্দিন আবির, তথ্য সম্পাদক আবু সায়েদ সুমন, আইন সম্পাদক আরমান হোসেন পাটওয়ারী, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ডুয়েট সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, লক্ষ্মীপুর শহর শাখার সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সেক্রেটারী আব্দুল আউয়াল হামদু প্রমুখ।


শেয়ার করুন