মোহাম্মদ ফয়সাল, যুক্তরাষ্ট্র
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এক সময় গুলিবৃদ্ধ হয়েও বেঁচে ফেরা সাহাব উদ্দিন সাবু।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রবিবার (১৫ মার্চ) এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু।
লক্ষ্মীপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া সাহাব উদ্দিন সাবু মরহুম জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হারিছ চেয়ারম্যানের ছেলে। শৈশব থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সাবু দীর্ঘদিন ধরে জেলার রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ ঘটনার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সেই ঘটনার পরও রাজনীতি ও জনগণের পাশে থাকার পথ থেকে সরে যাননি তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সহিংসতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে নেতৃত্বে উঠে আসা সাবুর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ লক্ষ্মীপুরের রাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে। তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন মাঠে রাজনীতি করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবমুখী হবে।
এদিকে সাহাব উদ্দিন সাবুর নিয়োগের খবরে লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নতুন দায়িত্বে তিনি জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
নিয়োগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাকে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি চেষ্টা করব লক্ষ্মীপুরের মানুষের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে।”
লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন বলেন, সাহাব উদ্দিন সাবু মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা। জাগোদল থেকে শুরু করে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে এখনো নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী সরকারের আমলে একাধিকবার তাকে জেলখাটতে হয়েছে।

২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর র্যাব বাসায় ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে এলাকায় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রক্তঝরা অতীত পেরিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে আসা সাহাব উদ্দিন সাবুর জন্য এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার নতুন এক পরীক্ষার মঞ্চ।


আরও পড়ুন
চন্দ্রগঞ্জে আলোচিত প্রভাতী সংঘের আয়োজনে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল
ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত খাদ্য দ্রব্য বণ্টনের নীতিমালা
চন্দ্রগঞ্জে শহীদ জিয়া স্মৃতি ডাবল হুন্ডা ফুটসাল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ