মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীর উপর নৃশংস স্বশস্ত্র হামলা, আহত ৬

সন্ত্রাসী হামলায় আহত ছাত্রলীগ কর্মীরা

শেয়ার করুন

মুক্তিকন্ঠ ডেস্কঃ

লক্ষ্মীপুরের পাঁচপাড়ায়  একটি  ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুবৃর্ত্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে  ছাত্রলীগের ৪ নেতা কর্মীকে গুলি  ও দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেছে।

শুক্রবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত ১.৩০ মি. এর দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের যৈদেরপুকুরপাড় এলাকায় ঘটনা ঘটে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ ও এলাকায় আধিপত্যের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে।

এই হামলার জন্য চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ থানাসেচ্ছাক সেবকলীগের আহবায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু ও তার অনুশারীদের দায়ী করেছে।

শনিবার সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মফিজ উদ্দিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহতরা হলেন ছাত্রলীগ নেতা  এম. সজীব ,ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুল পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম জয়, রাফি ও রাব্বী, জয় সহ ৬জন। আহতরা সবাই চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদুর রহমান মাসুদের অনুসারী বলে জানা গেছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদুর রহমান মাসুদ মুঠোফোনে জানিয়েছেন- রাত দেড়টার দিকে এম. সজীব, সাইফুল পাটোয়ারী, রাফি, রাব্বীসহ তারা ৬জন মাসুদকে মাহফিল শেষে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে পৌঁছে দিয়ে যায়। ফেরার পথে যৈদের পুকুরপাড় নামীয় বাজারের পাশে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়।

পরে খবর পেয়ে স্বজনরাসহ তাদেরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় আহত সজীব, সাইফুল ও রাফির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত জয়সহ অন্যান্যদেরকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে এম সজিবকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ।

চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, দ্বিতীয় রমজান থেকেই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুর সঙ্গে আমার বিরোধ চলে আসছে। এর জেরধরেই আমার লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি এঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু মুঠোফোনে বলেন- সদরের এমপি গোলাম ফারুক পিংকু সহ আমরা অনেকেই হযরত আব্দুল হক (রাঃ) ছোট মিয়ার মাজারে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে যাই। রাত সাড়ে ১১টায় উনাকে বিদায় দিয়ে আমি বাসায় চলে আসি। কাজী বাবলু বলেন-মাসুদসহ তাদের সাথে আমার দূরত্ব আছে এটা সঠিক। কিন্তু, হামলার সাথে আমি বা আমার কোনো লোকজন জড়িত নয়। আমাদের দ্বন্দ্বের সুযোগে বিএনপির সন্ত্রাসীরাও এঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। আমি সঠিক তদন্ত দাবী করছি।   ]

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আওয়ামীলীগ নেতা জানান, এইটা ডাকাইচ্চার  (কাজী বাবলু) কাজ। সেতার মসনদ রক্ষার জন্য যেকোন কাজ করতে পারে । এর আগে তার জন্য একই পরিবারের ৬জন মারা যায়। ডাকাইতরে(কাজী বাবলুরে) ধরলেই সব সত্য বের হয়ে আসবে।

এ দিকে, চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছাবির আহম্মেদ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক আহতদেরকে দেখতে সদর হাসপাতালে যান। এরপর তিনি ভোর ৫টার দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সকাল ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন বলেন, হামলা-মারামারি ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলসহ এলাকায় টহল জোরদার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


শেয়ার করুন