মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চন্দ্রগঞ্জে ডাকাত বাবলু’র ফাঁসি চেয়ে শ্লোগান, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

বিতর্কিত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী বাবলু

শেয়ার করুন

মুক্তিকন্ঠ ডেস্কঃ

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু’র ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে চন্দ্রগঞ্জ থানা ও ইউনিয়ন আ’লীগ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা।

বিক্ষোভ মিছিলের একাংশ

শনিবার ১১ঘটিকার সময় চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেটের সামনে থেকে সমতা সিনেমা হল পর্যন্ত গিয়ে আবার পূর্বের জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল এসে নিউ মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা করে। এতে চন্দ্রগঞ্জ থানা আ’লীগ, চন্দ্রগঞ্জ থানা কৃষকলীগ, চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ, ইউনিয়ন আ’লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগসহ সকল আ’লীগ অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিল। বিক্ষোভ মিছিলে কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু’র ফাসি চেয়ে শ্লোগান দেয় উপস্থিত নেতা কর্মীরা।

বিক্ষোভ মিছিলের সময় উপস্থিত নেতা কর্মীরা সড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে, পরে পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান চলাচল সচল করে। এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিলের সময় অনেক নেতা কর্মীর উপস্থিতির কারনেও সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত নেতা কর্মীদের মাঝে বক্তব্য দেন, চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এম ছাবির আহম্মেদ, চন্দ্রগঞ্জ থানা কৃষকলীগের সভাপতি এটিএম জাকির হোসেন জাহাঙ্গীর,  ‘‘এগিয়ে যাবে বাংলাদেশে’’ এর প্রধান সমন্বয় ইসমাইল মাহমুদ, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আ’লীগ যুবলীগের আহ্বায়ক মো. সাহাবউদ্দিন ও ১ম যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিংকুসহ আরো অনেকে কাজী বাবলু’র ফাঁসি চেয়ে এবং সজীবসহ বাকী আহতদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন।

প্রসংগত, ২০১২ সালে বাবলু কুমিল্লায় র‌্যবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়, তখন সে দীর্ঘদিন কুমিল্লায় কারাভোগ করে। সে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা এখনো চলমান, মূলত সে ডাকাত নাছিরের ডান হাত হিসেবে কাজ করতো, ডাকাত নাছিরের সব অস্ত্র এখন বিতর্কিত  এই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার কাছে। কেউই তার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলছে না। ২০১৯ সালে এই বিতর্কিত নেতার কারনে চন্দ্রগঞ্জে মেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের ৬জন লোক মারা যায়। ঐসময় তাকে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং সে প্রায় দেড় মাস কারা ভোগ করে। তার একাধিক বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে সে রাজনৈতিক উচ্চ মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক উচ্চ মহলকে ম্যানেজ করে চলে।

প্রতিবাদ সভায় এম ছাবির আহম্মেদ বলেন, “এই ডাকাত বাবলু গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আগুন লাগানো থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন আমি জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, আমি জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কেও এই ডাকাতের বিষয়ে অবহিত করেছি।” তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এই ডাকাতকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আহ্বান জানান। উপস্থিত একজন যুবনেতা জানান, গুগলে ডাকাত বাবলু নামে সার্চ করলে তার সকল কুকৃর্তি চলে আসে।

 শুক্রবার (১২ মার্চ) দিবাগত রাত ১.৩০ মি. এর দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের যৈদেরপুকুরপাড় এলাকায় ঘটনা ঘটে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ ও এলাকায় আধিপত্যের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখছেন উপস্থিত নেতা কর্মীরা।

এই হামলার জন্য চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ থানাসেচ্ছাক সেবকলীগের আহবায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু ও তার অনুশারীদের দায়ী করেছে। শনিবার সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মফিজ উদ্দিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহতরা হলেন ছাত্রলীগ নেতা  এম. সজীব ,ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুল পাটওয়ারী, সাইফুল ইসলাম জয়, রাফি ও রাব্বী, জয় সহ ৬জন। আহতরা সবাই চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদুর রহমান মাসুদের অনুসারী বলে জানা গেছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদুর রহমান মাসুদ মুঠোফোনে জানিয়েছেন- রাত দেড়টার দিকে এম. সজীব, সাইফুল পাটোয়ারী, রাফি, রাব্বীসহ তারা ৬জন মাসুদকে মাহফিল শেষে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে পৌঁছে দিয়ে যায়। ফেরার পথে যৈদের পুকুরপাড় নামীয় বাজারের পাশে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়।

পরে খবর পেয়ে স্বজনরাসহ তাদেরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় আহত সজীব, সাইফুল ও রাফির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত জয়সহ অন্যান্যদেরকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে এম সজিবকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ। বর্তমানে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায় , এম সজীবের অপারেশন চলছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, দ্বিতীয় রমজান থেকেই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুর সঙ্গে আমার বিরোধ চলে আসছে। এর জেরধরেই আমার লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি এঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করেও তার বক্তব্য নেওয়া যায় নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আওয়ামীলীগ নেতা জানান, এইটা ডাকাইচ্চার  (কাজী বাবলু) কাজ। সেতার মসনদ রক্ষার জন্য যেকোন কাজ করতে পারে । এর আগে তার জন্য একই পরিবারের ৬জন মারা যায়। ডাকাইতরে(কাজী বাবলুরে) ধরলেই সব সত্য বের হয়ে আসবে।

বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় চন্দ্রগঞ্জ থানা আ’লীগের সহ-সভাপতি এম ছাবির আহম্মদ পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামীকাল (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪ঘটিকার সময় আবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হবে। এই হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় কেউ কেউ সুবিধা নিতে চাচ্ছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এখনো থানায় মামলা হয়নি।

(চলমান….)


শেয়ার করুন