স্টাফ রিপোটারঃ
সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে। তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুলই যে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন– সেটা এক রকম নিশ্চিত। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোটের লড়াইয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে নৈতিকস্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁকে আজকের বৈঠকে ডাকা হয়নি। এ ছাড়া তিনজন বিরোধীদলীয় এমপি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ হয়।
এটি ঐতিহাসিক নির্বাচন: সিইসি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের দিন গতকাল এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা আমাদের সীমিত। তারপরও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সেই ব্যবস্থাও করেছি।
সিইসি বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও এই সরাসরি সম্প্রচার চালু থাকবে। তবে ফলাফল ঘোষণাকালে কোন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না। ব্যালটের ওপর ভোটারের নাম এবং প্রার্থীর নাম থাকবে।
২০ সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ ইসির
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ২০ সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে ইসি। নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের নামও রয়েছে। গতকাল ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচন পরিচালনায় দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানসহ সংসদ কক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য এসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়েছে।
শপথ গ্রহণে প্রস্তুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হবে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, মর্যাদাপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে ছয়টি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১২০০ অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার। রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। শপথ নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব নেবেন এবং নতুন মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে অবস্থান করবেন।







আরও পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে ঢাকায় দীপু মনি