মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ৬ হাজার ৫০০ বস্তা চাল-গম-ধান গায়েব

স্টাফ রিপোটারঃ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ বস্তা চাল-গম-ধান কম পাওয়ার ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক তথা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

একই দিন রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আইয়ুব রায়হান।

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ৪৯০ নম্বর স্মারকে গঠিত কমিটি ঘিওর এলএসডিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে খাদ্যশস্যের মজুত যাচাই করে। এ সময় ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম, ৪১ টন ধান বেশি এবং ৬ হাজার ৫০০টি বস্তা কম পাওয়া যায়। কমিটি বিষয়টি উপপরিচালক (সংস্থাপন), প্রশাসন বিভাগকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করে।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক তথা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী ফারহানা আক্তার ও শ্রী বিপুল কুমারকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে, গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শন শেষে উপজেলা খাদ্য গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলার সকল উপজেলার খাদ্য গুদামের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘিওরে আসে। তারা গুদামে মজুতকৃত খাদ্যশস্যের খাতাপত্র ও প্রকৃত মজুদের হিসাব মেলান। অডিট কার্যক্রম চলমান থাকায় হিসাবের গরমিল ও তথ্যে অসংগতি যাচাইয়ের লক্ষ্যে সাময়িকভাবে গুদামটি সিলগালা করা হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ঘিওর উপজেলা খাদ্য গুদামের পরিদর্শক (অফিসার ইনচার্জ) শ্রী বিপুল কুমারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আইয়ুব রায়হান বলেন, আমাদের ডিজি স্যারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আমাদের প্রত্যেকটা খাদ্য গুদাম বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হয়। এই অডিট চলাকালে আমরা ঘিওরের খাদ্য গুদামে গরমিল খুজে পাই এবং যারা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে খাদ্য গুদামটি আমি বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি আরও জানান, আমাদের গুদাম গুলোতে প্রতি মাসে দুইবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সর্বশেষ গত ১৫ আগষ্ট আমার নিকট প্রতিবেদন আসে, সেখানে সব কিছু ঠিকঠাক ছিলো।

প্রসঙ্গত, সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত যাচাইয়ের সময় বিতরণ করা খাদ্যশস্যের খালি বস্তার হিসাবও নেওয়া হয়। এসব খালি বস্তা অডিট টিমের কাছে প্রদর্শন করা না গেলে তা চুরি বা মজুত ঘাটতি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।