মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

লক্ষ্মীপুরে দেখা দিয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরে দেখা দিয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। শিল্প কারখানা ও ফিলিং স্টেশনগুলোও ভুগছে গ্যাস সংকটে। চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এ সংকট বলে জানিয়েছেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা। রাত ১২টার পর কিছুটা গ্যাস মিললেও ভোর হওয়ার আগেই তা ফুরিয়ে যায়। ফলে দিনভর রান্নাবান্নার কাজ নিয়ে পড়তে হয় চরম বিড়ম্বনায়। আবার গ্যাস সিলিন্ডারও অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে। ফলে চরম দূর্ভোগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

এদিকে গ্যাস না পাওয়া রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জেলা শহরের ইসলাম মার্কেট এলাকায় গ্রিন লাইফ ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক অবরোধ করে সিএনজি চালকরা। পরে পুলিশ এসে বিক্ষুব্ধ চালকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভকারী সিএনজি চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে জেলার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। তাদের দূরবর্তী এলাকা থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আয় কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ফিলিং স্টেশন চালুর দাবি জানান। এদিকে ‎অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তাদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

লক্ষ্মীপুরের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, সিএনজিচালকরা গ্যাস পাচ্ছেন না, তাই তারা হট্টগোল করেন। পরে আমরা গিয়ে তাদের শান্ত করি। একইসঙ্গে বুঝিয়ে বলা হয়, এটা স্থানীয় সমস্যা নয়, জাতীয়ভাবেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। পরে তারা রাস্তা ছেড়ে দেন। এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ সুন্দলপুর এবং বেগমগঞ্জের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গত এক মাস ধরে সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। এখন শুধু বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। লক্ষ্মীপুরে যে গ্যাস লাইন এসেছে তা ১৫০ পিএসআই চাপ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। কিন্তু এ চাপে এ পর্যন্ত কখনো গ্যাস আসেনি। স্বাভাবিক সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ পিএসআই চাপে গ্যাস আসতো। চাহিদার তুলনায় অনেক কম চাপে গ্যাস আসছে। যা চাহিদার তুলনায় একেবারে কম। এ জন্য গ্রাহকরা গ্যাস কম পাচ্ছে।