মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

জাল সনদে দুই স্কুলের সভাপতি বিএনপি নেতা

স্টাফ রিপোটারঃ

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ডিগ্রি পাসের জাল শিক্ষা সনদ দিয়ে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে এ অভিযোগের প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযুক্ত ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপন শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক। গত ২৮ জুন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে তাঁকে খড়না ইউনিয়নের ‘নাদুর পুকুর ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়’ ও ‘বনভেটি আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়’ এ দুই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হতে অন্তত স্নাতক (ডিগ্রি) পাস হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে উজ্জ্বল যে সনদ দাখিল করেছেন, তা টেম্পারিং করা ও জাল বলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ জমা দেন খড়না ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জমা দেওয়া সনদের রোল নম্বর দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিলেই এর জালিয়াতি ধরা পড়বে এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের সঙ্গে শিক্ষা সনদের নামেরও গরমিল রয়েছে।

অভিযোগকারী বিএনপি নেতা মহসীন আলী দাবি করেন, ‘উজ্জ্বল টাকার বিনিময়ে ও তদবির করে জাল সনদে সভাপতি হয়েছেন, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।’

জাল সনদের বিষয়টি জানা ছিল না উল্লেখ করে নাদুর পুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম এবং বনভেটি আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুল রহমান জানান, উজ্জ্বল সভাপতি হতে যে কাগজপত্র দিয়েছিলেন তা-ই শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তেই সত্যতা উন্মোচিত হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফজলুল হক উজ্জ্বল ওরফে রিপন দাবি করেন, ‘আমার জমা দেওয়া শিক্ষা সনদ শতভাগ সঠিক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান জানান, শিক্ষা বোর্ডের চিঠি পেয়ে দুই স্কুলের সভাপতির সনদপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুতই শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।