স্টাফ রিপোটার
বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক মরু অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশের চেষ্টাকালে তৃষ্ণা ও তাপে ১৯ জন আফগান পুরুষের করুণ মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) আরব আমিরাত-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। এর কয়েক দিন আগে কাছের দশত-ই মারগো, যার অর্থ ‘মৃত্যুর মরুভূমি’, এলাকা থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। নিমরোজের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ এলহাম জানিয়েছেন, শুষ্ক মরুভূমি অতিক্রমের সময় পানির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতায় মৃত্যু হয় তাদের।
প্রাদেশিক মুখপাত্র আবদুল মুতাওয়াকিল তৌহিদি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষ মরুভূমির দুর্গম এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। স্থানীয় সূত্র ও আফগান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সবাই আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদঘিস প্রদেশের একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
জানা গেছে, কাজের সন্ধানে এবং উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় তারা আফগানিস্তান ছেড়ে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু ইরান সীমান্তের কাছাকাছি মরুভূমিতে গিয়ে তারা আটকা পড়েন। ইরান ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে নিমরোজ প্রদেশের। আফগানিস্তান থেকে দেশ ছাড়ার চেষ্টাকারী অভিবাসীদের জন্য এটি অন্যতম প্রধান যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নিমরোজ তার বিস্তীর্ণ বালির টিলা, অনুর্বর ভূপ্রকৃতি এবং প্রচণ্ড গরমের জন্য পরিচিত। গ্রীষ্মকালে সেখানে তাপমাত্রা প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ফলে পায়ে হেঁটে ওই অঞ্চল অতিক্রম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী অভিবাসীরা পানিশূন্যতা, প্রচণ্ড তাপ ও শারীরিক অবসাদসহ জীবনহানিকর নানা ঝুঁকির মুখে পড়েন।







আরও পড়ুন
নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর পরিত্যক্ত পুকুর থেকে কাস্টম সিপাহীর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ২০
দুবাইয়ের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ