মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে

স্টাফ রিপোটারঃ

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে কানাডার সশস্ত্র বাহিনী। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

শনিবার (স্থানীয় সময়) কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এ তথ্য জানান। পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এবং হতাহতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, একটি গুরুতর ঘটনা থেকে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সেনাসদস্য ও অন্যান্য ব্যক্তির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

আলবার্টার কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইট নামের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এটি কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (সিবিসি) তথ্য অনুযায়ী, ঘাঁটিটি সরাসরি গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ ও মহড়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়। সেখানে সাধারণত প্রায় ৬৯০ জন সামরিক সদস্য এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী দায়িত্ব পালন করেন।

ওয়েইনরাইটের পৌর প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন সামরিক ঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের বেড়া অতিক্রম করে বাইরের এলাকাতেও ছড়িয়ে যায়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়।

কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর মনে পড়ছে না। তাঁর এ বক্তব্য থেকে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এ ঘটনাকে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে প্রদেশের বেশ কয়েকজন সাহসী সামরিক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রাদেশিক প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

কখন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ বিষয়ে প্রথম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পৌর প্রশাসন। এরপর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। আগুনের বিস্তার রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

এদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলবার্টাকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিবেশী প্রদেশগুলোও। সাসকাচুয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো জানিয়েছেন, তিনি আলবার্টায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠিয়েছেন এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও সহায়তা দিতে তাঁর প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবিও আলবার্টা সরকারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে কানাডার সামরিক ঘাঁটির কাছে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের সূত্রপাত, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও পরিস্থিতির অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।