লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিপাটি হয়ে স্কুলে যায়। শিক্ষকদের পরম যত্নে তাদের পাঠদান করানো হয়। দুষ্টমি আর হাসিখুশিতে পুরো শ্রেণীকক্ষ ভরে থাকে। হঠাৎ শ্রেণী কক্ষের ছাদ খসে পড়ল কোমলমতি শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের গায়ে। মূহুর্তের মধ্যে ভয় আর শংকা ডুকে পড়ল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনের ভেতর। বলছি লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।
২০২৪ সালে এই বিদ্যালয়ের মোট ৭টি শ্রেণীকক্ষের মধ্যে ৫টি শ্রেণীকক্ষকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। পরিত্যক্ত ঘোষণার পরেও কোন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ না করে এভাবেই মৃত্যু ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রতাপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
এ বিদ্যালয়ে দুটি পরিত্যক্ত ভবনের মধ্যে একটি ১৯৯৪-৯৫ ও অন্যটি ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে নির্মাণ করা হয় যার মধ্যে একটি সাইক্লোন সেন্টার। স্থানীয়রা জানান তখনই খুব খারাপ উপকরণ দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৭৩২জন, ৭টি শ্রেণী কক্ষের ৫টি পরিত্যক্ত শ্রেণীকক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিতে ও বিপদজনকভাবে পাঠদান করাচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই বিদ্যালয়ের ফলাফল বরাবরই ভালো, এবছর মোট ২২জন সরকারি বৃত্তি পয়েছে যার মধ্যে ১১জনই ট্যালেন্টপুলে এবং ১১জন সাধারণ গ্রেডে। একারনে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানকে এই বিদ্যালয়ে পড়াতে আগ্রহী।
গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণী কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে পড়ে দুইজন শিক্ষক মাহমুদা খানম ও সংগীতা রাণী দেবনাথ গুরুতর আহত হন পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীর গায়েও পড়ে। এঘটনাটির পরপরই অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রবাসী অভিভাবক মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘আমার ছেলে সাজিদ ঐ বিদ্যালেয় ৩য় শ্রেণীতে পড়ে, এ ঘটনা শোনার পর থেকে আমি খুব উৎকন্ঠায় থাকি যে, আমার ছেলের কোন ক্ষতি হলো কি না।’
বিদ্যালয়ের ৫টি শ্রেণীকক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণার পরপরই তখন উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ অনেকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নতুন ভবনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত পরিত্যক্ত ভবনে কোন কাজই করা হয় নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মো. মোস্তাফা বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দেখে আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করি, সবাই আশ্বাস দেয় এবং মাটিও পরীক্ষা করে কিন্তু তারপরও কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় নি। বর্তমানে আমরা খুবই দুঃচিন্তার মাঝে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কখন যে আবার ভেঙ্গে পড়ে কিনা এই ভয়ে থাকি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন এ বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি, আমরা গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ৩ ক্যাটাগরিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ইমারজেন্সি, ক্ষুদ্র মেরামত এবং নতুন ভবনের জন্য ৩ ভাবেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি, আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ আরম্ভ হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী জাতির আগামীর কর্ণধার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যদি ঝুঁকির কারনে বিদ্যালয় আসা ছেড়ে দেয় তাহলে জাতির আগামীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত না, পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করব।’







আরও পড়ুন
নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআই এজেন্ট, ৫ কোম্পানিতে সাইবার হামলা
পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো বিদেশি লেনদেন সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
সীমান্ত পার হতে গিয়ে ডেভিড ইমন আটক