মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নদী-খাল রক্ষা সম্ভব নয়: মন্তব্য পানিসম্পদমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দেশের নদী-খাল রক্ষা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দেশের খাল প্রকৃতির রক্তনালী। খাল ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পারস্পরিক সংযোগ ঠিক না থাকলে পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই খাল পুনঃখনন, নদী সংরক্ষণ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌ-পথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মানুষের শরীরে যেমন রক্ত চলাচলের জন্য রক্তনালী প্রয়োজন, তেমনি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি খালের সঙ্গে অন্য খাল ও নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়। এর প্রভাব কৃষি, পরিবেশ, নৌ-পরিবহন ও নগরজীবনে পড়ে।

তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। অতীতের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে বর্তমানে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভূমি, কৃষি, স্থানীয় সরকার, নৌপরিবহন, পরিবেশ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করা হয়েছে। আগে খাল খনন কর্মসূচিতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি।

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও টঙ্গী নদী দূষণ ও দখলের কারণে সংকটের মুখে রয়েছে। শিল্পবর্জ্য, অবৈধ দখল এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ এসব নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার নদীগুলো দূষণমুক্ত করা, নদীতীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং জলপথে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনার কথা বলা হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন অর্থনীতি ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, উপরিভাগের পানির উৎস সংরক্ষণ করা না গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় সংকটে পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু খাল খনন নয়, বরং নদী, খাল, জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।