মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ফুটপাতের দোকানের ছাতার আড়ালে সক্রিয় চোর চক্র

মোহাম্মদ হাছান, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোর টাঙ্গানো ছাতার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দিনের ব্যস্ত সময়ে ফুটপাতের দোকানগুলোর ছাতা ও ভিড়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী (স্বর্ণালংকার)হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ফুটপাত দখল করে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে ভিড় সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই ভিড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে চুরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চোর চক্রের সদস্যরা একা নয়, কয়েকজন মিলে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। একজন ক্রেতার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি বা কথাবার্তার সৃষ্টি করলে অন্যজন সুযোগ নিয়ে পকেট বা ব্যাগ থেকে মূল্যবান জিনিস সরিয়ে নেয়। তবে এসব অভিযোগের সমাধান নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ফুটপাত দখলের বিষয়টি নতুন নয়। বিগত দিনের একাধিক প্রতিবেদনে বাজারের প্রধান সড়কের দু’পাশে ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান ও স্টল বসানোর কারণে জনদুর্ভোগের কথা উঠে আসে।

গত ১৬ আগষ্ট বিকাল ৪টার দিকে নিপা নামের এক মহিলা স্বর্ণ দোকান থেকে ২ ভরির মত স্বর্ণ সাইড ব্যাগে নিয়ে যাওয়ার সময় সোনালী ব্যাংকের সামনে ফল দোকানের সামনে দাড়ালে কয়েকজন লোক তাদের ঘিরে ধরে, পরে দেখে ব্যাগে স্বর্ণ নাই। গত কয়েক মাসে একাধিক মহিলা এই ধরনের অভিযোগ করেছে। কিন্তু সিসি ক্যামরার ফুটেজ দেখতে গেলে ছাতার জন্য কিছুই দেখা যায় না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রাতে ও ব্যস্ত সময়ে পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে ফুটপাতের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানের উপরে টাঙ্গানো বড় বড় ছাতা গুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা চন্দ্রগঞ্জ বাজারের নিরাপত্তা জোরদার এবং কথিত চোর চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চন্দ্রগঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এনায়েত উল্যা জানান, “আমরা বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বাজার ইজারাদার মোহাম্মদ আলী মেম্বারসহ ফুটপাতের ব্যাবসায়ীদের ছাতা সরিয়ে ফেলতে বলেছি। না সরালে আমরা পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

এবিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব বলেন, “এ বিষয়ে আপনারা ইউএনও কে জানান, আর চুরির সুনির্দিষ্ট তথ্য ফেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।”

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের ছাতা টাঙ্গানোর কারনে চুরি, ছিনতাই বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”