মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

ছাত্ররাজনীতিতে অছাত্রদের নেতৃত্ব: আগামীর রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অধিকার আদায় এবং নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু যদি ছাত্রসংগঠনগুলোতে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী, চোর-ডাকাত কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু ছাত্ররাজনীতির আদর্শিক ভিত্তিকেই দুর্বল করবে না, বরং ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্যও অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে।
ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং দেশ ও সমাজ সম্পর্কে সচেতন নাগরিক তৈরি করা। কিন্তু যখন অছাত্র ও অপরাধ প্রবণ ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসে, তখন সংগঠনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের কল্যাণ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এর ফলে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং মেধাবী নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। আজকের ছাত্রনেতারাই আগামী দিনের জাতীয় নেতৃত্বের অংশ। তাই ছাত্ররাজনীতিকে সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক রাখতে হলে নেতৃত্বে অবশ্যই প্রকৃত ছাত্রদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সংগঠন থেকে দূরে রাখতে হবে।
বিগত সরকারের সময় অছাত্রদের ছাত্র রাজনীতির দায়-দায়িত্ব দিয়ে তৃণমূলের রাজনীতিতে খুবই খারাপ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল। বয়স্ক ব্যক্তি এবং একই কমিটি দীর্ঘদিন থাকার কারনে ছাত্র রাজনীতিতে নতুন নের্তৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছিল তখন। যার কারনে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নানান বেকায়দায় পড়তে বিগত সরকারকে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি দেওয়ার নিমিত্তে ছাত্র নের্তৃত্বে আসতে আগ্রহী ছাত্র নেতাদের থেকে জীবন বৃত্তান্ত আহ্বান করছে। যার কারনে সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন অছাত্র, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত অনেকেই ছাত্রদলের নের্তৃত্ব আসার জন্য আগ্রহী। বিষয়টি আগামীর রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাহের ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, “সুষ্ঠু ছাত্র রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতে যে কমিটি গুলো করা হবে সেখানে রানিং ছাত্র/ছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে। নতুন কমিটি করার জন্য আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতির বিভিন্ন ইউনিটে যারা পদ প্রত্যাশী সেখানে রানিং ছাত্র/ছাত্রীদের স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রত্বের প্রমাণ স্বরূপ প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে প্রত্যয়ন পত্র জীবন বৃত্তান্তের সাথে জমা দেওয়া জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।”

সুস্থ ছাত্ররাজনীতি মানেই সুস্থ ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আর সেই লক্ষ্য অর্জনে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচনে সততা, যোগ্যতা ও ছাত্রত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবি।