মুক্তিকন্ঠ

ভয়েস অফ ফ্রিডম ফাইটার ১৯৭১

সংকট কাটছে না, এলএনজির কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা

স্টাফ রিপোটারঃ

দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আগস্টে চারটি কার্গো আসার কথা। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত একটিও দেশে পৌঁছায়নি। কবে আসবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে আবার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিগগিরই সংকট কাটার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে জরুরি দরপত্রের মাধ্যমে আরও পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দুটি কার্গোর জন্য দর পাওয়া গেলেও অন্য তিনটির জন্য কোনো কোম্পানি প্রস্তাব দেয়নি। আগে জ্বালানি তেলের সংকটের সময়ও সরাসরি ক্রয়াদেশ পাওয়া কয়েকটি কোম্পানি তেল সরবরাহ করতে পারেনি। এরপরও নিয়মিত সরবরাহকারীদের মধ্যে দরপত্র না ডেকে নতুন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি এলএনজি সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলো না আসায় সংকট আরও বেড়েছে।

পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, মাসে সাধারণত ১০টি কার্গো আমদানি করা হয়। টার্মিনালে ত্রুটি থাকায় আগস্টে নয়টি কার্গো আসার কথা। এর মধ্যে তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে, একটি দীর্ঘমেয়াদি ও একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং চারটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা।

দরপত্রে কেনা তিনটি কার্গোর মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে গ্যাস সরবরাহ করেছে। অন্যটি ২০ আগস্ট আসার কথা। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকেও একটি কার্গো পাওয়া গেছে। সৌদি আরামকোর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছিল। তবে স্থানান্তরে ঝুঁকি থাকায় ওই কার্গো থেকে এলএনজি নিতে রাজি হয়নি টার্মিনাল।

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা চার কার্গোর দুটি সরবরাহ করার কথা হংকংভিত্তিক ঝেনইউ শিপিং কোম্পানির। গত রোববার তারা একটি জাহাজের তথ্য পাঠায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাজটি যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এটি গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে অন্য জাহাজ ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের লেনদেনে জটিলতা দেখা দিতে পারে—এ আশঙ্কায় সরকার জাহাজটি নিতে রাজি হয়নি।

অন্য তিন কার্গোর সরবরাহের সময়ও এখনো নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। তারা সময় পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের অনুমতি চাইতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ক্রয়াদেশ পাওয়া সরবরাহকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি (ডকুমেন্টেশন) ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারেনি। তাদের জাহাজ না আসায় ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করে নতুন এলএনজি জাহাজ আনা হচ্ছে। সরবরাহ ধরে রাখা যাবে, কোনো সমস্যা হবে না।