স্টাফ রিপোটারঃ
মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ ঘোষণা দিয়ে তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে কেটে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে এসব খণ্ডে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশ বা বিদ্যমান থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি। বিপরীতে পুরো চালানটি ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং শুল্ক-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা।
এনবিআর জানায়, চালানটিতে ১৪ ধরনের পণ্যের মোট ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ঘোষিত পণ্যের মধ্যে ছিল ব্যবহৃত দরজা, ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিনসহ গিয়ার অ্যাসেম্বল, সাসপেনশন শক অ্যাবসরবার, নোজ কাট, হেড লাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিরিং হুইল, বাম্পার ইত্যাদি।
এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মোংলা সার্কেল চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষায় ঘোষিত আলাদা গাড়ির যন্ত্রাংশের বিপরীতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ব্যবস্থা, সংবেদকও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় সামনের কাটা অংশ, সম্পূর্ণ পেছনের কাটা অংশ, সামনের ও পেছনের অংশ কাটা ও ছাদ কাটা প্যানেল এসেম্বল পাওয়া যায়। অর্থাৎ সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে বলে কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।
শনাক্ত চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে—২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। এর মধ্যে রেঞ্জ রোভারের বাংলাদেশি বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বিএমডাব্লিউর ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা, লেক্সাসের ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি এবং টয়োটা ক্রাউনের এর ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনবিআর জানায়, চালানটির ইনভয়েস মূল্য ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। ঘোষণায় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২.৭৪৩৩ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ১৯ হাজার ৫৭৭ টাকা ধরে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। এর ওপর শুল্ক-কর দেখানো হয় ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৯৬ টাকা এবং অন্যান্য অর্থসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা।
তবে গাড়িগুলোকে পৃথক ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে না দেখিয়ে জিআরআই আইন অনুযায়ী আংশিক সংযোজিত অবস্থায় সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হলে কত শুল্ক-কর প্রযোজ্য হতো, তা এখন নির্ধারণ করা হচ্ছে। গাড়ির প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বয়স, অবচয় এবং প্রযোজ্য শুল্ক-করসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।







আরও পড়ুন
চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ফুটপাতের দোকানের ছাতার আড়ালে সক্রিয় চোর চক্র
রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় প্রকাশ